১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে। সেই অনুযায়ী, ১৪৪৬ হিজরির রমজান শুরু হবে ১ অথবা ২ মার্চ, চাঁদ দেখা যাওয়ার উপর নির্ভর করে। তবে, আপাতত, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২ মার্চ দেশে প্রথম রমজানের জন্য সেহরি ও ইফতারের সময়সূচী প্রকাশ করেছে।
২৭ জানুয়ারি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১৪৪৬ হিজরির রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের সময় চূড়ান্ত করেছে।
সেহরির শেষ সময় সুবহা সাদিকের ৩ মিনিট আগে সাবধানতার সাথে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ফজরের শুরুর সময় সুবহা সাদিকের ৩ মিনিট পরে নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত ক্যালেন্ডার অনুসারে, ২ মার্চ রমজানের প্রথম দিন ঢাকায় সেহরির শেষ সময় হবে ভোর ৫:০৪ মিনিটে এবং ইফতারের সময় হবে ভোর ৬:০২ মিনিটে।
তবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ দূরত্ব অনুযায়ী ঢাকার সময়ের সাথে ৯ মিনিট যোগ করে এবং ৯ মিনিট বিয়োগ করে সেহরি ও ইফতার খাবেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে যে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে, সেহরি শেষ হওয়ার ৬ মিনিট পর ফজরের নামাজের আযান দেওয়া উচিত। সূর্যাস্তের পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইফতারের সময় তিন মিনিট বাড়ানো হবে।
সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫
বিভিন্ন অঞ্চলের সময় পার্থক্য
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেহরি ও ইফতারের সময় ঢাকার সময়ের সাথে ৯ মিনিট পর্যন্ত যোগ বা বিয়োগ করতে হবে।
- পূর্বাঞ্চল (চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজার): ঢাকার সময়ের সাথে ২-৯ মিনিট যোগ করুন।
- পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, খুলনা, কুষ্টিয়া): ঢাকার সময়ের সাথে ২-৯ মিনিট বিয়োগ করুন।
- উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল (রংপুর, বরিশাল, ময়মনসিংহ): ঢাকার সময়ের সাথে ১-৫ মিনিট যোগ বা বিয়োগ করুন।
(এখনো অন্য অঞ্চলের সঠিক সময়সূচি প্রকাশ করেনি। করলে আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে)
বিঃদ্রঃ নিজের এলাকার সঠিক সময় জানতে নিকটস্থ মসজিদ বা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
রোজার নিয়ত
বাংলায় উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন আছুমা গদাম মিন শাহরি রমাদ্বানাল মুবারকি ফারদ্বল্লাকা ইয়া আল্লাহু ফাতাক্বব্বাল মিন্নী ইন্নাকা আংতাস সামীউল আলীম।
অর্থ: আয় আল্লাহ পাক! আপনার সন্তুষ্টির জন্য আগামীকালের রমাদ্বান শরীফ-এর ফরয রোযা রাখার নিয়ত করছি। আমার তরফ থেকে আপনি তা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা , সর্বজ্ঞাত।
মাসআলা: কেউ যদি ছুবহি ছাদিক্বের পূর্বে নিয়ত করতে ভুলে যায় তাহলে তাকে দ্বিপ্রহরের পূর্বে নিয়ত করতে হবে। তখন এভাবে নিয়ত করবে।
ইফতারের দোয়া
বাংলায় উচ্চারণ: (আল্লাহুম্মা সুমতু লাকা, ওয়া তাওআক্কালতু আ‘লা রিঝক্বিকা, ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রহিমীন)
অর্থ: আয় আল্লাহ পাক! আমি আপনারই সন্তুষ্টির জন্য রোযা রেখেছি এবং আপনারই দেয়া রিযিক্ব দ্বারা ইফতার করছি।
রমজান মাসের ফজিলত
প্রত্যেক নেক আমলের বিভিন্ন ফযীলত ও সওয়াব রয়েছে যা দ্বারা মহান রাব্বুল আলামীন আমলকারীকে পুরস্কৃত করবেন, কিন্তু রোজার বিষয়টি একেবারেই স্বতন্ত্র। কারণ রোজার বহুবিধ প্রতিদান ছাড়াও এ বিষয়ে একটি ঘোষণা রয়েছে। রাসূলে কারীম (সা.) ইরশাদ করেন –
‘মানুষের প্রত্যেকটি আমলকে বৃদ্ধি করা হয়। একটি নেকী (সওয়াব) ১০ গুণ থেকে (ক্ষেত্র বিশেষে) ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন : কিন্তু রোজার ব্যাপারটি ভিন্ন। কারণ রোজা আমার জন্য। সুতরাং তার প্রতিদান আমি নিজেই প্রদান করব।’- সহীহ বুখারী, হাদীস ১৮৯৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৫১/১৬৪
রোজা কিয়ামতের দিবস সুপারিশ করবে
হাদীস শরীফে এসেছে- ‘রোজা ও কুরআন মজীদ কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে আল্লাহ!আমি তাকে দিনের বেলায় পানাহার ও যৌন সম্ভোগ থেকে পূর্ণ বিরত রেখেছি। কাজেই তাকে ক্ষমা করে দিন এবং পুরস্কৃত করুন এবং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। আর কুরআন বলবে, আমি তাকে রাতে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি। কাজেই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কুবল করুন। অতঃপর তাদের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে।’ -মুসনাদে আহমদ, হাদীস ৬৫৮৯; তবারানী-মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৩/৫১৯
রোজা জাহান্নামের আগুনের ঢাল ও দুর্গ
হাদীস শরীফে এসেছে- ‘রোজা জাহান্নামের আগুন থেকে পরিত্রাণের জন্য একটি ঢাল এবং দুর্গ।’-মুসনাদে আহমদ, হাদীস ৮৯৭২
রোজাদার জান্নাতের রাইয়ান নামক শাহী তোরণ দিয়ে প্রবেশ করবে
এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে-‘জান্নাতে রাইয়ান নামক একটি শাহী তোরণ আছে যা দিয়ে একমাত্র রোজাদারগণই প্রবেশ করবে। অন্য কেউ সে তোরণ দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।’ (‘আর যে ব্যক্তি সে রাইয়ান গেট দিয়ে প্রবেশ করবে সে আর কখনো পিপাসিত হবে না।’ সহীহ বুখারী ১/২৫৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৫২
রোজাদারের জীবনের সকল গুনাহ মাফ হয়ে যাবে
হাদীস শরীফে এসেছে- ‘যে ব্যক্তি পূর্ণ বিশ্বাস সহকারে সওয়বের উদ্দেশ্যে রমজানের রোজা রাখে, আল্লাহ পাক তার জীবনের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।’ -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯০১
রোজাদারের দুআ কবুল হয়
হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে-‘তিন ব্যক্তির দুআ ফেরত দেওয়া হয় না : রোজাদার ব্যক্তির ইফতারের সময়ের দুআ, ন্যায়পরায়ণ শাসকের দুআ ও মজলুমের দুআ। এ তিন ব্যক্তির দুআ আল্লাহ তাআলা মেঘমালার উপরে উঠিয়ে নেন। এবং এর জন্য আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। তখন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, আমার ইযযত ও মহাসম্মানের কসম! বিলম্বে হলেও আমি অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করব।’ -সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস ৩৪২৮
রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ
হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে-‘রোজাদার ব্যক্তির আনন্দ উপভোগের দুটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে। একটি ইফতারের সময়, অপরটি স্বীয় প্রভূর সাথে সাক্ষাতের সময়।’ -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯০৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৫১/১৬৪
রোজাদারের মুখের গন্ধ মিশকের চেয়েও সুঘ্রাণযুক্ত
রোজার কারণে মুখে যে দুর্গন্ধ হয় আল্লাহ তাআলা তারও মূল্যায়ন করেছেন কল্পনাতীতভাবে। অনাহারের কারণে সৃষ্ট দুর্গন্ধ তাঁর কাছে মিশকের চেয়েও অধিক সুঘ্রাণ বলে জানিয়েছেন আর ধন্য করেছেন তাঁর প্রেমে মত্ত রোজাদারদের।
নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেন- ‘নিশ্চয় রোজাদারের মুখের (পানাহার বর্জনজনিত) গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশকের সুগন্ধি অপেক্ষা উত্তম।’ -সহীহ বুখারী হাদীস, ১৯০৪
এভাবে এক মাস রোজা রাখা সম্ভব হলে ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাকওয়া ও সংযমের মহামূল্য সম্পদ দান করবেন, যার মাধ্যমে ইহকালীন ও পরকালীন প্রভূত কল্যাণের দ্বার উন্মুক্ত হবে।